প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 28, 2025 ইং
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেই জলতাঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন ॥ রোগীদের ভোগান্তি

সিরাজ আল মাসুদ
টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জলতাঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুর-বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগিদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩শ রোগীকে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনে প্রয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অসহায় দরিদ্র রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.খন্দকার সাদিকুর রহমান বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন।
জানা যায়, কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন আড়াই শতাধিক মানুষ ভ্যাকসিন নিতে আসেন টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সরকারি এই হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা। জীবন রক্ষায় তাদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভ্যাকসিন। এ সুযোগে অসাধু দোকানিরা ভ্যাকসিন বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আবার অনেক সময় বেশি দামেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। আগষ্টে চাহিদা ছিল ৪ হাজার ভায়েল। কিন্তু সরবরাহ ছিল মাত্র ৪শ ভায়েল। প্রাপ্ত ৪শ ভায়েলের প্রতিটিকে ৪ ভাগ করে ১ হাজার ৬ শত আক্রান্ত রোগীকে প্রদান করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তুলনামূলক ভাবে রোগীর চাপ বেড়েছে। ডিসেম্বরে রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২৫০-৩০০ আক্রান্ত রোগী বাইরে থেকে কিনে আনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন।
২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার শুধুমাত্র মধুপুর উপজেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে ৩২ জন রোগি জলতাঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন গ্রহন করেছেন। এদের মধ্যে বিড়াল, কুকুর ও শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হওয়া রোগি ছিল। তবে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যকসিন মজুদ রয়েছে।
নাগরপুর থেকে আসা নাজমুল ইসলাম জানান, রাতে বাড়ির পোষা বিড়াল আঁচড় দেয়। পরের দিন সকালে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। কিন্তু সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। পরে বাধ্য হয়ে কয়েক দোকান ঘুরে ৫০০ টাকা দামের ভ্যাকসিন ৮০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছি।
টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ভ্যাকসিন চারজনকে ভাগাভাগি করে দিচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে কুকুরের কামড়ে আহত হয় সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা তূযা। সাবিহার দরিদ্র শ্রমিক বাবা আক্রান্ত অন্য চারজনের সঙ্গে ভাগ করে এক ডোজ ভ্যাকসিন দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সাইদুর রহমান জানান, জলতাঙ্ক রোগের প্রতিশেধক ভ্যাকসিন যদি মাংসে দেওয়া হয় তাহলে একজনকে এক ভায়েল ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হয়। যদি চামড়ার নিচে দেওয়া হয় তাহলে এক ভায়েল ভ্যাকসিন ৪-৫জনকেও দেওয়া যায়। কারণ চামড়ার নিচে প্রয়োগ করলে ওষধের পরিমাণ কম লাগে। মাংসে প্রয়োগ করলে ওষুধ বেশি প্রয়োজন হয়।
টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, ‘জলতাঙ্ক রোগের প্রতিশেধক ভ্যাকসিন পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। অফিসিয়ালি চিঠি প্রদান করা হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন খুব শিগগিরই এটির একটি সমাধান হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com